iswarchandra vidyasagar

Mohool Potrika
Login Here  Login::Register

আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া



iswarchandra vidyasagar

স্বাদহীনতার কাহানি



Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
জল জঙ্গল জমিন / হড় মিতানের ঋণ ।। গৌতম মাহাত
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
স্বাধীনতার স্বাদহীনতা ।। সুদেষ্ণা ঘটক অধিকারী
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
শিক্ষকের স্বাধীনতা–শিক্ষকের স্বাদহীনতা ।। শোভা ভট্টাচার্য্য
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
ভয় ।। অর্পিতা আচার্য
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
তুলির টানে স্বাদ–হীন সময় ।। অঙ্কন মাইতি
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
ছোলামুড়ি ।। অলক জানা
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
হে আমার দেশ ।। অভিনন্দন মুখোপাধ্যায়
Card image

প্রবন্ধ : স্বাদহীনতার কাহানি
স্বাধীনতার এত বছর পরেও লোকশিল্পীদের স্বাদহীনতার কাহিনী ।। ভাস্করব্রত পতি
Card image

গল্প : স্বাদহীনতার কাহানি
শিশুর স্বাধীনতা– শিশুর অধিকার ।। সহদেব প্রধান
Card image

গল্প : স্বাদহীনতার কাহানি
রবিবাসরীয়র জন্য গল্প ।। শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী

  swadhinota

"যে কেড়েছে বাস্তুভিটে, সেই কেড়েছে ভয়
আকাশ জুড়ে লেখা আমার আত্মপরিচয় "
আমি সন্দীপা। আসামের শিলচরে থাকি। এই ভারতবর্ষেরই একটা ছোট্ট নগর --ঝাঁ চকচকে শহরের তুলনায় একটা দেহাতি জনপদ, কিছু পাহাড় টিলা আর বাংলাভাষায় কথা বলা কয়েকটা মানুষ। এতো সাধারণ একটা শহর যে বাকি ভারতের অনেক লোক চেনেই না তাকে। আমাকেই কে চেনে? কি জানি, আজকাল  আমার অস্তিত্বটাই পীড়া দেয় আমাকে। এই যেমন সকালে আমি যখন কলেজের উদ্দেশ্যে বেরোই আমার মা পিছন থেকে ডেকে আমাকে বলে
--তাড়াতাড়ি আইবায় নি?
আমি ল্যাপটপের ব্যাগের বোতামটা লাগাতে লাগাতে বলি,
-- খাইয়া লাইও, বইয়া থাকবা না আমার লেইগ্যা
এসব কথোপকথন আমাকে আঞ্চলিক করে দেয়। সংখ্যালঘু বলে একটা শব্দ। কোনখানের সংখ্যালঘু? এ দেশের, এ রাজ্যের ? বা বাংলা ভাষারও এক  সংখ্যালঘুত্ব? কলকাতায় পড়াশুনা করতে গিয়েছিলাম আমি। সেখানে যখন কথা বলতাম, আমার বন্ধুরা, জানিনা তাদের আমি বন্ধু বলতে পারি কিনা, কেমন অবজ্ঞার চোখে দেখতো আমাকে। উদ্ভট একটা জীবের মতো আমার ভাষা, আমার টোন, উচ্চারণভঙ্গি অহরহ বিব্রত করে রাখতো আমাকে। একদম চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। অনেকটা বোবা জানোয়ারের মতো। প্রয়োজন ছাড়া কথাই বলতাম না। কী হীনমন্যতাবোধ আমাকে কুরে খেতো, তা শুধু আমিই জানি। ওরা আমাকে বলতো, বাংলাদেশী! যে কোনো জায়গায় গেলে আমাকে জিজ্ঞেস করতো , আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি কিনা! কি আশ্চর্য! বাংলাদেশী, কিন্তু বাংলাটাই ঠিক মতো জানিনা। বাঙাল ভাষা আমার ভাষা। এ দেশে তাই আমি, আমার মা বাবা, আমার পরিসরের মানুষেরা পঞ্চাশ বছর পরেও বাংলাদেশী! আর বাংলাদেশে? সেখানেও সংখ্যালঘু। তাড়া খাওয়া এক জাতি। একাত্তরের যুদ্ধের পর এ দেশে পালিয়ে এসেছে  আমার মা বাবার পরিবার। তখন মা বাবা দুজনেই খুব ছোট। নব্বইয়ে আমার জন্ম। এই দেশের ইতিহাস পড়ে বড় হয়েছি আমি, আমার বাবা। এ দেশের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে কোনো কোনো ভোর কেঁপে  উঠেছে ভ্রমরের অসীম গুঞ্জরণে। এতো বড় দেশ আমি চিনিনা। চিনি আমার ব্রহ্মপুত্র, আমার চা বাগানের কালচে সবুজ, ছোট ছোট বাংলো প্যাটার্নের বাড়ি, শহর, বাজার, দোকান আর সহজ কিছু মানুষ। এই আমার দেশ, এই আমার ভারত।
কয়েক বছর আগে যখন বাবার পরিচিত শফিক আলির বাড়িতে লোক ঢুকে গুলি করে মেরেছিল তার বউকে, দু বছরের মেয়েটাকে আগুনে ফেলে দেওয়া  হয়েছিল আর সাত বছরের মেয়েটাকে ছিবড়ে করে জঙ্গলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তখন ভেবেছিলাম , ওরা তো মুসলমান। বরপেটা জেলার খাগড়াবাড়িতে থাকতো শফিকরা। বাবার কলিগের মাসতুতো ভাই। বাবা অফিস থেকে এসে ভয়ংকর সেই ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। তারপর চুপচাপ খাবার টেবিলে বসেছিলাম আমরা তিনজন। আমাদের রুটি আর আলু কুমড়োর ছক্কার টিফিন ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যাচ্ছিলো। একসময় মা তাড়া দিয়ে বলেছিল–
খাইবা নি তুমরা কিতা। কার বাড়িত কী হইসে তা  নিয়া দুইজনে পড়ছো উইঠ্যা পইড়া। এমন তো কতই হয়!
এমন তো কতই হয়। উনিশ শো তিরাশি সালেও এমন হয়েছিল। বাবার চোখের সামনে বিশ্ব বিদ্যালয়ের গেটে বাবার বন্ধু মনোতোষকে কোপানো হয়েছিল। 'বঙাল খেদা' আন্দোলনে আসাম তখন কাঁপছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের ওয়াল টপকে বাবা বাড়িতে এসে খাটের কোনায় বসে মুরগির মতো থিরথির করে কাঁপছিলো। মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যে ককিয়ে উঠলে ঠাম্মা বাবাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলো, এমন তো কতই হয় !  তার চোখে তখন হয়তো ভাসছিলো রাতের অন্ধকারে তল্পিতল্পা নিয়ে বর্ডার পেরিয়ে আসার সময় অন্ধকার চিরে ভেসে  আসা কার মরণ চিৎকার !
দু বছর আগে ফেব্রুয়ারিতে বাবা একদিন অফিস থেকে এসে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো সোফার ওপর। মা ঠান্ডাজল নিয়ে এসে ফ্যান বাড়িয়ে দিয়ে টুলের ওপর উদ্বিগ্ন মুখে চুপ করে বসে রইলো--
--কিতা, শরীর খারাপ নি কুনো তুমার?
-- না গো। কই যামু এইবার কও। জোয়ান মাইয়াডারে লইয়া কুন দেশে আশ্রয় লমু!
জানলাম, নাগরিকপঞ্জিতে আমাদের নাম নেই। আমরা বিদেশী। এই দেশে বিদেশী, এই পৃথিবীর সব দেশে বিদেশী। আমরা বাঙালির দলে বাঙালি নই, আমরা 'বঙাল' বলে আমাদের খেদিয়ে দূর করা হবে, এখন আমরা তো এক ধাপ এগিয়ে বিদেশীও! রোহিঙ্গাদের মতো আমরাও কী পৃথিবী ঢুঁড়ে বেড়াবো? কে আমরা ? আমরা কারা? ডিটেনশন ক্যাম্পের গল্প শুনে দুপুরবেলা পানের বাটা নিয়ে বসে ডুকরে কাঁদে আমার মা। তারপর চুনমাখা আঙুলে চোখের জল মুছে বলে–
কিচ্ছু  অইতো না। কুনো একটা  ব্যবস্থা অইবো। হয় নাকি এইটা। ইডা আমরার দ্যাশ। আমরার জন্ম কর্ম এইখানে। এই দ্যাশ ছাইড়া যামু কই? এইটা স্বাধীন ভারত। বৃটিশ আমল না যে, যা ইচ্ছা তাই করবো। আমরা লড়াই করুম , আদালতে যামু, আন্দোলন করুম!
আন্দোলনের স্বপ্ন দেখতে দেখতে আমাদের সহচররা অনেকে  ডিটেনশন ক্যাম্পের নরকে দিন গুজরান করতে থাকে। আমরা রোজ ভাবি ...তবে কী এবার আমরাও?
স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার ভাবনাটা এখন সকাল বিকাল মাথায় আসে। কলেজে ছাত্র পড়াতে পড়াতে ভাবি–চাকরিটা থাকবে তো আমার? আমিও কি শিগগিরই ডি ভোটার তালিকা ভুক্ত হবো?
বাবা এখন রিটায়ার্ড। কিছুদিন আগে জানলাম, এবারের মতো আমরা হিন্দুরা হয়তো বেঁচে গেছি। এ দেশ আমাদেরই। আমাদের ধর্ম আমাদের ঢাল হয়েছে। মায়ের মুখ খুশি খুশি। বলে,
--- আগেই কইছিলাম! শুধুমুধু ভয়পাইয়া প্রেশার বাড়ায় বাবা মাইয়া। বেশি পইড়া তুরার বুদ্ধি যুক্তি গেছে গা। এমন হয় নাকি কুনোদিন? এই দ্যাশ আমরার !
নতুন বছরের নতুন তালিকায় অবশ্য আমাদের নাম নেই। জানিনা, দ্বিতীয় তালিকায় থাকবে কিনা। প্রতিদিন গোবিন্দর পূজা দিতে দিতে মা বিড়বিড় করে,
-- হে ভগবান, নয়া তালিকায় নাম তুইল্যা দও।
বাবা সময় পেলেই দেখি স্যুটকেস খোঁজে, বাক্স প্যাটরা খোঁজে, কাগজপত্র জমায় , গোছায়, জেরক্স করে, ফাইলে নাম্বার দেয়, সাজায়! মাঝে মাঝে শূন্য দৃষ্টিতে বসে থাকে বারান্দায়। টিনের চালের বারান্দা থেকে বাবার নিজে হাতে করা ঝুলন্ত টবে অজস্র ফুলেরা গন্ধ ছড়ায়। বাবাও মায়ের মতো বিড়বিড় করে আজকাল,
--কুন দ্যাশটা যে আমরার আইজ পর্যন্ত বুঝলাম না রে!
আমিও জানিনা। এ ভারতবর্ষ আমার কিনা! 
তবে, ভয় আর পাই না ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া



Card image




ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া   দেখেছেন :  ১৬২

বিদ্যাসাগরের বিজ্ঞান ভাবনা ।। সুব্রত কুমার বুড়াই
Subrata Kumar Burai ।। সুব্রত কুমার বুড়াই

    আলোর উৎস থেকে আস্তে আস্তে যতদূরে যাওয়া যাবে ততই আলোর দীপ্তি ক্রমে কমতে কমতে একসময় আর আমাদের চোখে পড়বে না। ব্যতিক্রম সূর্য। দূরে থাকা সত্ত্বেও তার রশ্মির দিকে তাকানো যায় না। এমনই এক ব্যতিক্রমী আলোকোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব বিদ্যাসাগর। তাঁর অবিনাশী অস্তিত্ব…

Sep 25, 2020
Card image




ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া   দেখেছেন :  ২২৭

মহামারী ও বিদ্যাসাগর ।। মৌসম মজুমদার
Mousam Majumder ।। মৌসম মজুমদার

    এক অভূতপূর্ব অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি। করোনা আজ মহামারীর রূপ নিয়ে গোটা বিশ্বে জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দাঁড়িয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। থমকে গেছে বিশ্বের সংস্কৃতি চর্চা। সামাজিকতা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। অন্ধকার ভবিষ্যৎ হাতড়ে আশার আলো খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা। এর…

Sep 25, 2020
আরও পড়ুন

সর্বাধিক জনপ্রিয়



সহজ কবিতা সহজ নয় কঠিনও নয়



করোনা Diary



আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...

 

 

কবিতা, গল্প, কবিতা বিষয়ক গদ্য পাঠাতে পারেন ইউনিকোডে ওয়ার্ড বা টেক্সট ফর্মাটে মেল করুন admin@mohool.in ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- www.mohool.in এ প্রকাশিত লেখার বিষয়বস্তু ও মন্তব্যের ব্যাপারে সম্পাদক দায়ী নয় ।