Author

Niranjan Jana ।। নিরঞ্জন জানা

প্রেমপত্র
নিরঞ্জন জানা

প্রিয় পলাশ,

               পাগল আমার। মনে পড়ে, গত বছর বলে গেলি বসন্ত উৎসবে আসবি। এলি। তবে বড্ড দেরি কোরে। আর হ্যাঁ, আগেই বলে দিচ্ছি–বকুলের পানে একদম তাকাবি না  কিন্তু। ভোরের  আলো ফোটার আগেই যখন বসন্ত সখা ডাকে, বাতাসে আবিরের গন্ধ, শাল বনে কচি পাতা ফাগুন রোদ মাখে, এলোমেলো হাওয়া দ্যায়–তখন আমার যেন কী একটা হয় !  বসন্তের শিউলি সজনে ফুল ঝুপ করে পড়ে মাটির বুকে কি সুখ পায় !  তুই একটা আস্ত ভিতুর ডিম। আজকাল  দুষ্টু ছেলেরাও বাসকের মধু খায়। ভাঁটফুলরাও হয়েছে তেমনি ! মুখের দিকে হাঁ করে থাকে।  রাত্রিদি ভোরাইকে জড়িয়ে যখন চুমু খায় তখন  বাতাবি ফুলের সুবাস  মেখে অভিসারে যাই। বেহায়া বৃষ্টি তোর উপর ঢলে পড়লে আমার ভীষণ কষ্ট পায়। আর ঐ মৌটুসি ! তোর নগ্ন  সৌন্দর্য দেখে তোর কাছে খালি ঘুর ঘুর করে। আমার ভয় করে। পাছে যদি হারাই...। তবে ফি বছর মধু মাসে অযোধিয়া, বাঘমুণ্ডি, ডুংরি পাহাড় , ডুলুং নদীর পাড়ে তোর সঙ্গ সুধা ভোলার নয় । 
              ভালো থাকিস লাল। 
                                                 ইতি 
                                                  তোর লালি,
                                                         শিমুল। 
Write comment (1 Comment)
0
1
0
s2sdefault


স্বপ্নালু চোখে খুঁজি 
নিরঞ্জন জানা

দেখা না করে বাইরে যাওয়া কিংবা বাড়িতে ফিরলে আমার পায়ের শব্দ শুনেই কি করে যে বুঝে যেত--অবাক হয়ে যেতাম! যতক্ষণ না গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে দিই ততক্ষণ তার বকবকানি শুনতেই হোত। আমার আঙুলের ডগায় বুলিয়ে দিত তার তুলতুলে নরম জিভ। গায়ে শিহরণ-মনে পুলক -আত্মবিস্মৃত হয়ে যেতাম। সে আমার কৈশোর আর যৌবন বেলা ছুঁয়ে আছে। পড়শি গ্রাম থেকে ভেসে আসা আজানের সুরে তার ঘুম ভাঙ্গত। বলত পক্ষীভাষায় অনর্গল কথা। ঘুম ভাঙ্গাত আমার। "চুপ কর, পড়ছি "-বললে তবেই থামত।
স্বাধীনতার এক সকাল। রেডিও তে বাজছে "স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে"। সত্যি তো এভাবে ভাবিনি। খাঁচা খুলে দিলাম। মুক্ত,স্বাধীন। না,পারল না। উড়তে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল। বলি,"ওঠ,ওড়না কৃষ্টদাস।" নীল আকাশে সবুজ ডানা মেলে উড়ে যায়। চোখের কোন চিকচিক করে।দুঃখে
না আনন্দে--জানি না।
আশাহত। আনমনা। জারুল পাতায় বিষণ্ণ রোদ পড়েছে। তোয়া বলে," বাবা,দেখবে এসো।"
উর্দ্ধশ্বাসে ছুটে যাই। হঠাৎ দেখি-- ফিরে এসেছে কৃষ্টদাস । বিহ্বল দৃষ্টি। চেনা শিস্। সেই ডাক। আকুতিভরা অনুভূতির কথা মুখ। কাঁধে এসে বসে।তারপর দীর্ঘ দু'দশক পর। একদিন চলে যায় আমাদের কাঁদিয়ে যেখান থেকে আর ফেরা যায় না। বাড়ি ফিরলে ওর অপেক্ষার চাহনি আজো ভুলিনি। খেতে বসলে এখনো ওর কথা মনে পড়ে। জীবনের খাঁজে খাঁজে লেগে থাকা আদুরে ভালোবাসা মনের জানালা দিয়ে স্মৃতি হয়ে ঢুকে পড়ে। স্বপ্নালু চোখে তাকিয়ে থাকি যদি "ও" আসে ...। "দোসর সুতো ছিন্ন করে সুজন গেল কোন পারে দিল দরিয়ায় বাউল মাঝি মন খারাপের গান ধরে।"

Write comment (2 Comments)
0
1
0
s2sdefault

WhatsApp Image 2018 10 04 at 23.19.09

মা
নিরঞ্জন জানা


জানো মা, তুমি আমার মা হবে?
-দুর বোকা,আমি তো তোর-ই মা
        আবার মা হবো কি-রে?
              আমি তো চাই--
                   টিভি'র মা
                   বাবা'র মা
                   পাখি'র মা
তুমি তো চাকরী করা মা!



Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault