Author

Nisarga Nirwas Mahata ।। নিসর্গ নির্যাস মাহাতো


শেষ বেলা
নিসর্গ নির্যাস মাহাতো

আবার ছোট বেলার ঘর। বহু বছর পর। পূর্ব দিকে মাথা করে শুয়ে আছেন রবি। বাধ্য। শরীর অষাড়। আবছা স্মৃতি ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকে। এই ঘরেই না কত বেয়াদপি, চাকর বাকর অতিষ্ঠ হয়ে উঠত। আর আজ উঠবার জো টুকু নেই। মৃত্যু দেখে- শুনে ক্লান্ত রবি ঠাকুর। নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও নির্বিকার। আফসোস একটাই, শেষ পর্যন্ত কাটা ছেঁড়া হলোই তবে। কি যন্ত্রণা! এবার তারও ছুটি নেবার পালা।

বউঠান কী জন্য? ডুকরে উঠল কবির বুক। অবহেলা ক্ষমা করো ছুটি। মায়ের মুখ বারবার ভেসে আসছে। সেই গন্ধ! কী নরম শীতল হাত। কী উষ্ণ আঁচল।

কানের কাছে জপ হচ্ছে ব্রাম্ভ মন্ত্র, "শান্তম্, শিবম্, অদ্বৈতম্... তমসো মা জ্যোতির্গময়" । ঘর জুড়ে কান্নার রোল।

রবি নেই।... ওকি কাঁপা কাঁপা বাম হাত সরে এল বুকের কাছে, ডান হাতের পাশে। হাত জড়ো হল উল্টানো বই-এর মতো। এবার সত্যি নিথর। দুপুর ১২ টা ১০ । গুরুদেব নেই। বাড়ি থেকে বাইরে লোক জমায়েত। শেষ দেখা টুকু। ছাদে সাধের নন্দন কাননে হাওয়া বইল। ছুটিকে রবির পাঠানো অনেক চিঠির মাঝে অভিমানে পড়ে থাকল, একটা ঘোলাটে না পাঠানো প্রত্যুত্তর, মৃণালিনী ।

 

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault


রজস্বলা
নিসর্গ নির্যাস মাহাতো

পিরিয়ডস্। চলতি কথায় মাসিক। অসহ্য যন্ত্রণা। গুয়াহাটি ঘুরতে এসে ঠিক কামাখ্যা মন্দির
দর্শনের আগেই শুরু হয়ে যাবে বুঝতে পারেনি। নীরার প্রবেশ নিষেধ। তাই মেয়েকে পাঠান
কাপড়ে করে দেবীর রজস্বলা আনতে । সিংহাসনে রাখবেন।
সদ্য যৌবনে পা দেওয়া যুবতী বলে ওঠে , অম্বুবাচী মায়েরও। কল্পনার মা কি নিজের মায়ের
চেয়েও বড়ো?!

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault

WhatsApp Image 2018 10 04 at 23.19.09


মই

নিসর্গ

একটা মই-এর খুব শখ ছিল ।
ঘোড়ঞ্চি টানেনি তেমন,
দরকার ছিল একটা লম্বা-
আকাশছোঁয়া মই।
দু-একবার সুযোগও এসেছিল,
আরও বড়ো-আরও ভালোর অপেক্ষায় পাওয়া আর হয়ে ওঠেনি ।
কিছু বাঁশ,তার অবশ্য ধরা দিয়েছিল-
এদিক-ওদিক, হয়তো-
পাকাপোক্ত ভাবেই ।
চাহিদা- একটা লম্বা গগণচুম্বী মই...
কতজনের সিঁড়ি হলাম-
আমায় বেয়ে আকাশ ছুঁল।
নিজের মই পেলাম কই?!
 
 
 
Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault