Author

Dukhananda Mandal ।। দুঃখানন্দ মণ্ডল

বসন্তের চিঠি
দুঃখানন্দ মণ্ডল

সুজাল,
কেমন আছো? অনেক দিন ধরে পড়ে থাকা একটা সাদা কাগজে তোমাক কিছু লিখবো ভেবেছি! তাও জানি না তোমার হাতে পৌঁছবে কিনা! বেশ কিছুদিন হলো আমি ঘরবসা! মানে আমার কর্মশক্তি অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে; তাই ঘরেই থাকি। সারাদিন উঠানে হাঁস মুরগীগুলো কিচিরমিচির করে। ওদের কথা শুনতে শুনতেই একটি একটি দিন শেষ হয়ে যায়। তুমি কেমন আছো? জানো তুমি যেখানে এসে বসতে, সেখানে একটা বাঁধানো দালান হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর বসি। দখিনা বাতাস গায়ে লাগে, চোখ জড়িয়ে আসে। কানে ভেসে আসে কৃষি কথার আসরের গল্প। কখন যে বিকেল হয়ে যায় তার টের পাই না। জানো ঘুম ভেঙে দেখি স্কুল ফেরত অষ্টাদশীরা তোমার দেওয়া পলাশ গাছের ফুল কুড়াচ্ছে। কতবার ভুল করে ওদের কারো কাঁধে হাত দিয়ে বলেছি; সুজাল আমার হাতে কিছু পলাশ কুড়িয়ে দাও। ওরা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে কাকু তুমি না…! আমি পাগল বলল। না গো কাকু তুমি পাগল নও! ওরা ফিরে যায়। সুজাল তোমার মনে আছে! এই গাছটি কোনোভাবেই লাগাতে দেবে না দাদা‚ আর তুমি জোর করে গাছটি লাগিয়েছিলে। বলেছিলে গাছ আমাদের বন্ধু। এখন জানো ঐ পলাশ আমার সত্যই বন্ধু। খুব কাছের, খুব অন্তরের। সুজাল একবার তো আসতেই পারো! নাইবা একা এলে, সাথে তোমার পলাশকে নিয়ে এসো। তোমার পলাশ দেখে তো যাক, কেমন ফুলে ফুলে ভরে গেছে তার মায়ের হাতে লাগানো পলাশ। আজ রাখি। একটু বিশ্রাম নিতে হবে। অনেকক্ষণ বসে আছি তাই কোমরের যন্ত্রণাটা বেড়েছে। রাখি তাহলে; আমি এখন ভালো আছি আগের থেকে।

                                         ইতি,
                                           আবীর

Write comment (0 Comments)

মন কেমন করে ওঠে
দুঃখানন্দ মণ্ডল

মানুষ সম্পূর্ণ ভাবে নিজেকে নিজের কাছে পেয়ে গেলে ঘুরে দাঁড়ায় অতীত থেকে। কিন্তু একটা সময় আসে অতীত খুব নাড়া দেয় স্মৃতি। তখন ক্লাস ফাইভ। বাড়ি থেকে ছয় মাইল দূরে স্কুল। হাঁটা পথ প্রায় তিন ঘন্টার। টিফিন বলতে রাতের ভাত আর অড়রহর ডাল সিদ্ধ। এক হাতে বইয়ের ব্যাগ, অন্য হাতে বাসি ভাতডালের সিলভার টিফিনকেরী। এত পথ তারপর কাঁসাই নদী পার হওয়া। মাঝির সাথে চুক্তি থাকত বছরে তিনটি মুরগী। সমতল বালির চরে অনেকটা গর্ত খোলা হতো ভিজে বালি তারপর জল আসা বালির উপর বাসি ভাতডালের কৌটাটি বসিয়ে দিয়ে বালি চাপা দিয়ে স্কুলের পথে এগিয়ে যাওয়া। সাত পিরিওডের ঘন্টা বাজার অপেক্ষায় থাকত পেট। তারপরেও শান্তি কোথায়? এক ঘন্টার হাঁটা পথ পেরিয়ে আসার পর নদীর চর। যত সামনে আসতো নদীর চর ততই গতি বাড়তো পায়ের। একটা সময় বালি সরিয়ে কৌটা বার করা হতো। ততক্ষণে কৌটাটি বেশ ঠাণ্ডা হয়েছে। ভাতের টক স্বাদও এসে গেছে। তৃপ্তি ভরে খাওয়ার পর কাকচক্ষু কাঁসাইয়ের জল কৌটার ঢাকনা দিয়ে খেয়ে নৌকায় করে নদী পার হয়ে বাড়ির পথে এগিয়ে যাওয়া। মন কেমন করে ওঠে স্মৃতি নাড়া দিলে। এখন নৌকা বাঁধা নেই। নেই মাঝিও। বালির চরে কাশের বন মাথা নাড়ছে আর নদীর উপর দৈত্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে কংক্রিটের ব্রিজ। দাদা আসুন ভাত বাড়া হয়ে গেছে। তোমার প্রিয় অড়রহর ডাল আর শুসনি শাকের ভাজা আজ করেছি।

স্মৃতিগুলো জমে আছে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মতো, বার্ধক্য যত এগিয়ে আসছে ততই মন কেমন করে উঠছে।

Write comment (0 Comments)

WhatsApp Image 2018 10 04 at 23.19.09

দাগ-৩৪
দুঃখানন্দ মণ্ডল
 
 
লুকিয়ে যার সাথে শেয়ার করি মন
মন ভেঙে যাওয়ার কথায় প্রেম হয়ে যায়
কি কথা কি ভাষা কেমন মন-- সব বাঁধা পড়ে।

সব গোপনীয়তা কেমনভাবে মুক্ত বিহঙ্গ হয়
মনে হয় না কিছু হারিয়ে যাওয়ার কথা
তুমি যাকে বিচ্ছেদ বল আমি তাকে বলি প্রেম।
 
 
 
Write comment (0 Comments)