Author

Ritwik Tripathy ।। ঋত্বিক ত্রিপাঠী

সহজ কবিতা ।। ঋত্বিক ত্রিপাঠী
 
১.
এই মুহূর্তে লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে
একটাই শব্দ : পর্ণমোচী 
দশ অবতার শেষে বিষণ্ণ চোখ 
মাটির দিকে
মাটিকে মাটি বলতে বলতেই 
সংজ্ঞা নির্মিত হল, মহিমাও...
পর্ণমোচীরও রং থাকে
আয়ু কমছে, নামছে মাটিতে
নিজস্ব রং ও রীতি নিয়ে
এখন শব্দ শ্রাব্য নয়, লেখ্য
নির্জনতা এমনই গভীর যে
লেখারও কিছু শব্দ পাচ্ছি
পর্ণমোচীর স্বভাবে।
 
 
২. 
সুখী শুয়োরের থেকে দুঃখী  মানুষ ভালো
সুতরাং জটিল এ জীবনে চাই
সহজ কবিতা
প্রতিবাদ, অস্তিত্বের শেকড়ে জল
প্রতিবাদে জল ঢেলে সেতু নির্মাণ 
গাছের পাতা, ছায়া ও হাওয়া 
বরং ভালো নির্জনতা, একা, পৃথিবী ছাড়িয়ে 
উধাও, উধাও
যেহেতু জীবন ও পৃথিবী এক
সুতরাং ভাবমোক্ষণ চাই
চাই জলে তরঙ্গ, নৌকো...
সেতুর ছায়া পড়েছে জলে 
ছায়া পেরুচ্ছে নৌকো, নৌকোতে আমরা
সুখী ও দুঃখী মানুষ। 
 
 
৩. 
রােদ পুড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের
সেই কবে শিখেছি আগুন ব্যবহার
শিখেছি অহং
অহং ও আগুন যুগপৎ আঁকো 
যেন গাঢ় রেখা
এখন রােদের মধ্যেই আমরা 
অহংশূন্য খুঁজছি ওই রেখা
রেখা মানে অমিতাভের স্ত্রী 
তিনিও জ্ঞানশূন্য
অর্থাৎ রােদের মধ্যে দাঁড়িয়েই
লেখা যেতে পারে সহজ কবিতা
 
logo1 sahajkobita ritwik
 
৪. 
গান সকলের ভালাে লাগে
পৃথিবীর সবার
অবশ্য পৃথিবীর সবখানে
ঘরসংসার নেই
সংসার ও সন্ন্যাস জীবনে চাই গান
সংসার থেকে গান গাইতে গাইতে 
পৃথিবীর অন্তত একজন সন্ন্যাস নিচ্ছে রােজ
বােধ হয় এই সব কারণেই গান নিয়ে 
হইচই হচ্ছে। সুমন কবীর হচ্ছে
কবীর মাধবীলতা হয়ে দুলছে 
তাল দিচ্ছে, হাতের তালুতে আঙুল
ফলে, ফের সমালােচনার ঊর্ধ্বে
উধাও হচ্ছে গান...
অথচ সহজ কবিতার মতো
গানও তাে একদিন থেমে যায় ! 
 
৫. 
শ্মশানে যাইনি কখনও আমি
আশ্রমেও না
অথচ শ্মশান ও আশ্রম উভয়েই
তিন অক্ষর তিন ভুবন
বৃত্ত, কেন্দ্র ও পরিধি 
এই হল তিন ভুবনের আসল ব্যাকরণ
অবশ্য ব্যাকরণের কথা ভুলে গেলে তবেই
লেখা যায় সহজ কবিতা
 
.
জাহাজ ও সমুদ্র বন্ধুতরঙ্গ 
একে অন্যকে জাগিয়ে রাখে
জাহাজ মানে ঘরকুনাে ব্যাং 
সমুদ্র নীল কামনা বাসনা
তরঙ্গ, সে তাে আত্মহত্যা
সুতরাং আত্মহত্যার স্বপক্ষে এখন
দিন ও রাত এক
এক হলে পর তবেই সহজ কবিতা
সমুদ্রে ভাসে জাহাজ তরঙ্গময়
 
logo2 sahajkobita ritwik
 
৭.
ছায়াপথ ধরে এগােচ্ছে দাহ, প্রাণ
প্রাণ ও দাহ পরস্পর 
একই শহরে থাকে 
ভিন্ন দুই গ্রামের দুই বন্ধু
স্টেশনে বাজারে বাসস্টপে
দেখা হয় কদাচিৎ
দেখা হলে রঙিন শব্দমালা
মােম হয়ে ঝরে ফুটপাতে
ফুটপাত বদল হয়
বাড়ি ফিরে দেখে দাহ ও প্রাণ
ঘুমিয়ে একই বিছানায় 
সহজ কবিতার মতাে...
 
৮. 
দিন বড় হলে রাতকে বলি সন্ধ্যা
সন্ধের গায়ে তারা ঘুমন্ত গাছ
গাছের আড়ালে অলৌকিক রাত
রাতের গায়ে মায়া, ইশারা
ইশারায় ঝরে যাচ্ছে পাতা, আয়ু
পিরামিডের চুড়ােয় কাক
কে কাকে করবে শাসন
ভাবতে ভাবতে দিন ছােট হয়
ভাবতে ভাবতে রাত ছােট হয়
সুতরাং আবার লিখতে হবে
নিয়মিত, সহজ কবিতা
 
logo3 sahajkobita ritwik 
 
৯. 
কাব্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্রোক্তি 
ভামহ বলেছেন অলংকার কথা
ভামহকে আমরা জানি, মানি
কিন্তু ভামহ কি আমাদের চেনেন! 
জীবন আর কাব্য কি আলাদা !
বক্রোক্তি ব্যবহারেই তাে 
সরে যাচ্ছে বন্ধুবর্গ
অথচ জীবনের অলংকারের জন্য 
কাব্য চাই 
কাব্যের জন্য বক্রোক্তি 
  
১০. 
মাঝে মাঝে ধর্মগুরু হতে হয়
গুরুর নামে বাণী দাও 
স্বীকার করাে ঋণ
গুরু বলেছেন, সংসার করাে 
সংসারেই ত্যাগ অন্যমনস্ক হও
কবিতা লেখাে
কবিতার নামে জীবন লেখাে
জীবনের জন্য প্রতিবাদ আঁকো
দেওয়ালে টাঙিয়ে দাও
তাই তাে! আমরা যা লিখি 
যা আঁকি তা কি দেওয়ালে কেউ টাঙায়! 
তাহলে কি 
সেসব সংসার জীবনে থেকে
মগ্নতার ফসল !
মন্ময় নয় তন্ময় হও
সহজ কবিতা লেখাে 
গুরু বলেছেন। ধর্মগুরু।
 
Write comment (0 Comments)

কথোপকথন
ঋত্বিক ত্রিপাঠী

মৃত্যুসম ভালোবাসা জানিয়েছে কে!

তুমি।

ধ্বংস কিংবা পতন চিনিয়েছে কে!

তুমি।

এই এত মনখারাপ আর ভাগাভাগি!

সেও তুমি।

দিগন্ত নীল...
হাঁটুভাঙাদিনের শেষে
জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী হতে কে শেখাল!
সে শুধু আমি।

Write comment (1 Comment)

ভাষা সংস্কার

ঋত্বিক ত্রিপাঠী

আদিকাল থেকেই, বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পাশাপাশি। একইভাবে ভাষাবিজ্ঞান ও ভাষা প্রসঙ্গে ছুৎমার্গ সমান্তরাল। আজও। সুইডিশ ভাষা ঈশ্বরের আর ফরাসী ভাষা শয়তানের, এমন যুক্তিহীন ধারণা আজও আমরা বহন করি অন্য অন্য ভাবে।
তাই, বিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক হওয়া এক,বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া আর এক। সংস্কার ও না-সংস্কারের অনুপাত যখন ভেঙে যায় তখনই সমস্যা হয়। অনুপাতের অঙ্কে আজকের বাংলা ভাষা সংকটময়। আজও, বিজ্ঞানের অন্তর্গত করে বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দিইনি। তাই, সঠিক সংস্কারের অভাবে সে অন্ধকার ঘরে একা। বিতত বীতংসে পড়ে জটিল। কোনও এক ভাষায় জন্ম নিয়ে সেই ভাষাকে লালন পালন করা যথার্থ সম্ভব হয় তখনই, যখন সেই ভাষাকে সেই সমাজসংস্কৃতির অভিন্ন করে দেখতে পারি। প্রাদেশিক ভাষা ওড়িয়া কিংবা হিন্দির থেকে আজও ইংরেজি শব্দ প্রয়োগে আমাদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা পায়। আত্মা শান্তি পায় কি না জানা নেই। মন্ত্রতন্ত্রে সংস্কৃত, খিস্তিতে হিন্দী, প্রথম নরম প্রেমে বাংলা সিরিয়ালের বাংলা, বাংলাভাষিদের সেমিনারে ভুল ব্যাকরণে ইংরেজি, পার্টিতে ইয়া-উয়া মিশ্র ভাষা, অলৌকিকত্বে সাধু বঙ্কিমী, ব্যর্থ প্রেমে রবীন্দ্র ভাববাচ্য ইত্যাদিতে আমরা আজ অভ্যস্ত।
তবে কি আমাদের সংস্কৃতি আমাদের ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না! আমাদের সংস্কৃতি কি আমরা হারিয়েছি! না কি আমরা মিশ্র সংস্কৃতির পায়ে মাথা রাখছি! আর, আশাবাদ তৈরি করছি এই বলে যে, মিশ্র সংস্কৃতিও তো এক সংস্কৃতি! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান বদলে যায়। যুক্তিনির্ভর সে বদল! ভাষারও বদল আসে। সেই বদলের সঠিক দিকনির্ণয়ের জন্য চাই নিরপেক্ষ সংস্থা। দুর্ভাগ্যের এই স্বাধীন দেশে আজও তেমন কোনও উদ্যোগ গড়ে উঠল না।
বিজ্ঞানে লগ্নি হয়েছে যা, বিজ্ঞান মনস্কতায় সে তুলনায় কিছুই না। ভাষা ব্যবহার আজ একমাত্র। ভাষা সংস্কার মর্যাদা পায়নি। ফলস্বরূপ ভাষাকে শ্লীল -অশ্লীল, রাজধানী - মফস্সল ভাষা- উপভাষা,মানুষ-দেবতা ইত্যাদি ইত্যাদির বিভাজন ও নাক উঁচু-নিচু করতে সময় দিচ্ছি বেশি। অথচ, ইতিহাস পড়তে গিয়ে প্রাচীন যুগের রোমাঞ্চ পাচ্ছি না। বিজ্ঞানের ভাষাতে বিস্ময় নেই। ভূগোলের ভাষায় নেই চিত্রকল্প। সবই যেন রসহীন তত্ত্ব ও তথ্য। বিজ্ঞানের অধ্যাপকের ধারণা তাঁর ভাষাজ্ঞান জরুরী নয়। অথচ, তিনিও তো ভাবই প্রকাশ করেন। বিষয়কে এক থেকে বহু করতে চান। কীভাবে করবেন! নির্দিষ্ট দিশা নেই। ব্যক্তি উদ্যোগ কিছু আছে,কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। অথচ,ব্যক্তিত্ব প্রকাশে প্রয়োজন ভাষাজ্ঞান ও প্রকাশ। তাহলে কি আমরা ব্যক্তির জীবনদর্শন, সৃজনশীলতাকে মানতে চাইছি না! গুরুত্ব দিতে চাইছি না আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বকে! এই কারণেই কি তরুণ পাঠক পাঠিকা বেশি করে এস এম এস- র ভাষাকে আঁকড়ে ধরছে! মিশ্র ভাষাতে অভ্যস্ত হচ্ছে! কিংবা নীরবতাকে প্রশ্রয় দিয়ে চিহ্ন সংকেতে আসক্ত হচ্ছে! দীর্ঘ চিঠি লেখা উঠে যাচ্ছে-- তাও কি এই কারণে!
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেবাস নির্ভর আমাদের জীবন। সামাজিক মর্যাদা অর্থনৈতিক অবস্থানের ওপর একমাত্র নির্ভরশীল। সেই কারণেই ভাষা সংস্কার ও চর্চার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। কার্যকরী করবে নিরপেক্ষ স্বাধীন কোনও সংস্থা। রাষ্ট্রকে বুঝতেই হবে নিয়মিত সংস্কার না করলে প্রাচীন রসহীন ব্যাকরণ সর্বস্ব ভাষা দুর্বল হবেই। দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই 'কিন্তু' শব্দকে হারিয়ে 'বাট' শব্দ মর্যাদা পাবে। বিদেশী শব্দ স্বাগত চিরকাল। কিন্তু বলপূর্বক আনয়ন স্বাস্থ্যকর নয়। 'মোবাইল' শব্দটির বাংলা না করলেও চলে। চলভাষ কিংবা দূরভাষ কিংবা মুঠোফোন শব্দগুলির থেকেও মোবাইল শব্দটি বেশি প্রায়োজনিক ও প্রাসঙ্গিক। এক্ষেত্রে 'মোবাইল' বিদেশী শব্দ হয়েও বাংলা অভিধানে স্বাগত। ভাষা একান্তভাবেই বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যনির্ভর। তাই, ভাষাসংস্কারে রাষ্ট্রের একটু বেশিই মনোযোগ প্রয়োজন। আমরা পুষ্পাঞ্জলি দেবার সময় সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করি। সেই দেবীকেই বিপদে পড়ে ডাকি বাংলায়। সংস্কৃত ভাষায় কাউকে খিস্তি মারি না। ইংরেজিতে কোনওদিন স্বপ্ন দেখি না কিন্তু ইংরেজি ভাষার স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করিয়ে আত্মতুষ্টি পাই। যে ভাষায় একজন উকিল ওকালতি চালান, দিনশেষে সেই ভাষায় তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন না,যেহেতু সমাজ বদলে ভাষা বদল হয়। সময় বদলেও ঘটে ভাষা বদল। আত্মমগ্ন যুবকটি ভাষার অভাবে আত্মঘাতী হতে পারে। তৈরী হতে পারে বিষয়ের প্রতি ঘৃণা। ভাষার অভাবে কিভাবে ঘটবে ভাবমোক্ষণ (ক্যাথারসিস)! যে রাগ অভিমান দুঃখ অনুরাগ প্রশংসা রসিকতা ভাষা মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে মন শান্ত ও উদার হতে পারতো - তার(ভাষার) অভাবে সে আত্ম-আবিষ্কারের বদলে আত্মঘাতীও হতে পারে। এ কথা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাষ্ট্রকে বুঝতেই হবে। তবেই রাষ্ট্র হয়ে উঠবে অভিভাবক।
ভাষাও আসলে বিজ্ঞান। তার প্রয়োগ ও পরিবর্তনকে যুক্তি নির্ভরতায় বিশ্লেষণ করা যায়। তাই ভাষাচর্চাতে সরকারী বাজেট বরাদ্দ হওয়া চাই। চাই নানাবিধ পরিকল্পনা।
শুধু বাংলা আকাদেমি ও সাহিত্য অকাদেমি যথেষ্ট নয়।

 

 

Write comment (0 Comments)

'

WhatsApp Image 2018 10 04 at 23.19.09

ঋত্বিক ত্রিপাঠী

 

জন্ম-সূত্রের কান্না : এক

এক পা গিলেছে আলো
অন্য পা মায়া
মা, তুই অন্ধকারেই ভালো


জন্ম-সূত্রের কান্না : দুই

এক জন্ম গাছের ডাল
ভূমির ওপর কান্না বৃষ্টি
মৃত্যু আমার জন্মকাল
মা, আমি তোর অন্ধ সৃষ্টি


জন্মসূত্রের কান্না : তিন

এক জন্ম পারুল হাওয়া
জন্ম মৃত্যু স্বপ্ন-কায়া

 

 

Write comment (0 Comments)
IMG 20180320 WA0030
 
 
কথার কথা 
ঋত্বিক ত্রিপাঠী
 
এমনও কিছু কথা থাকে মানবিক অথচ
বিগ্রহ অভিসার পুড়ে যাচ্ছিল, সে তো স্বাভাবিক
পাশেই নিষ্প্রাণ স্তোত্র,  নিমেষ ভগ্নাংশ 
 
ছায়ার শরীর লক্ষ শ্মশান নির্বিঘ্ন গর্ত
সেখানেই অস্থির কথা ঘনঘোর বিদ্যুৎ
ক্ষণেক্ষণে পোড়ায় আলো, সুবর্ণ দেহ
 
শরীরে লুকিয়ে ছিল বোধিবৃক্ষ
অনন্তকাল নিছক জলের নামে মানত
কালে কালান্তর নিরক্ষর দিগন্ত
 
যখন তখন পুঁথির মালা ইচ্ছা ডিগবাজি
গুপ্তধন চোরালণ্ঠন,সাইডে এসো
কথা আছে ভীষণ ভীষণ পারসোনাল।
Write comment (3 Comments)