Author

Alok Jana || অলক জানা

বসন্ত ফোঁটা
অলক জানা


ঝরে যাওয়া ক্ষতে বাড়তে থাকে
নতুন পাতার দিন, গাছে গাছে উৎসব আলেখ্য
আলো আবিরে বিগত শোকের অশৌচ পালন।


ধুলোর বিষণ্ণতা বইতে পারে বাতাস
সবটুকু ত্রুটি মেনে গাছেরা, পরকীয়া বাতাসে কেমন ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।


স্মৃতি ও মরণপতা পড়ে থাকে অসহায়
মনন ও গাছতলায় কুরুক্ষেত্রের চিহ্ন পড়ে থাকে।


সম্পর্কের দাবি সমতা হারালে
সমস্ত সীমারেখার বন্ধন একদা
আলগা হয়ে যায়...
তখন একক সংকীর্তনে বেজে ওঠে
বিচ্ছেদ বসন্তে নবীনবরণ।


ইচ্ছে মান্যতা পেলে, শরীরে আসে
সামুদ্রিক লবণাক্ত স্বাদ, বহুকিছু অপ্রাপ্তির ভেতর
নতুন ছাড়পত্র যেন ফিরে আসা
মহাকাব্যের বসন্তদিন অরণ্যলিপি।


ফিরে আসাটাও ধ্রুব নিশ্চিত, সম্পর্কের ধর্ম।
পর্ণমোচী বিপন্নতায় রাতের কঙ্কাল
বেঁচে থাকে দিনের উদাস কম্পাঙ্কে।


অপেক্ষা মানে কিছু চঞ্চল সময়ের পায়ে
বেড়ি দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা...
ইন্দ্রিয়বনে ফাল্গুন, আগুন ছড়িয়ে যায়।


প্রশ্রয় দাও বলেই না আকাশ ?
আমার মাটির আকাশ, কৃষিজ খামারে মজুত
শস্যের মতো খুঁটে নিই প্রাণ, মহাকাব্য।


চেতনার বাঁকে জমে থাকে বাস্তুঘুঘু অন্ধকার
ঋতুবিকারে তার বা কী এসে যায় ?
কেবল চৈতন্যজ্যোতি জানে রঙের মহিমা।

১০
দীর্ঘসহবাসে ছিল পাশবালিশ অসুখ,
অনিদ্রা অনিচ্ছে, অনিবার্য বৃষ্টির প্রত্যক্ষ প্রমাণ,
পাতা খসানোর নিয়মে তারও ঢাকনা সরে গেলে
নিয়ন আলোয় ঝরে পড়ে বসন্তের রঙ।

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault

 

একাকার

অলক জানা

 

 বসন্ত বাউণ্ডুলে‚ যেখানে সেখানে হি হি সবুজ ডানায় উঁকি

দুঃখ-অশ্রু সত্যি ঢাকতে পারো‚ তাই মুখের সমতলে

লিখে দাও আনন্দঝুরি কবিতা। তোমার মেয়ে‚ স্ত্রী তুমি

দূরে গেলে ফোনে সন্ধের খাদ্যতালিকা শোনায়---

তুমি তখন পাঁঠার মাংসে ডুবিয়েছ রুটির অর্ধেক পিঠ

বিষাদগ্রস্ত তুমি‚ আমিষ পথ্যে পাও আলুমাখা ডালের স্বাদ

তুমি আহত‚ চেয়ে চিন্তে ঘাম দাও‚ দাও শ্রম

যে কড়ি পাও অনেক খুশির চোখ লেখ তাতে আঁকো মুখও

এক মরু অভাব তোমাকে তাড়ায় তবু বৃষ্টি হয়ে

ঝরে পড়ে মিনুর সাজানো ঘরে---

রাধাপদ্য আর কৃষ্ণগদ্যের মিলনের মতো।

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault