Author

Srijit Jana ।। শ্রীজিৎ জানা

শিমুল, আমার প্রিয় শিমুল
শ্রীজিৎ জানা

শিমুল, মনের কোণে যখন হেমন্তের শূন্যতা, করঞ্জর ডালে বসা কোকিলের কুহু বলে গেল তোর আসার কথা। জানি, তুই আসবি প্রতিবারের মতো ফাগুন রঙে রাঙা হোয়ে। খোঁপায় রক্ত পলাশ। দু' গালে আবিরের আদুরে আলপনা। আমার চোখ মুখে তখন শীতেরর চিহ্নটুকু নেই। পর্ণমোচী মনের শাখায় কুসুমিত নবপল্লব। মাথায় তখন গোঁজা ময়ূরপুচ্ছ, হাতে বাঁশি। তোর পাশে আমি গাঁয়ের রাখাল। তখন তো "হৃদয়তটিনী মম সগর্জনংপ্রবহতিতরাং"। অজয় নদের তীরে যে উচ্চারণ সেতো আমার – "দেহি পদপল্লব মুদারম্"

শিমুল, শরীর নাকি মন কোন ফাগুনে যুগল হব আমরা! শরীর তো এক বসন্তঋতু, মনে থাক অনন্ত মধুমাস। কিন্তু এই যে তোর সাথে আমার আবির বিনিময় সেকি মথুরা- বৃন্দাবন! সেকি আত্মা- পরমাত্মা দোল উৎসব! নাকি রঙ মাখাবার ছলে গোপন স্পর্শসুখ! ফাগুন তো স্পর্শ উন্মুখ। প্রেমের মলাটের ভিতর গোপন মৈথুনের অক্ষরলিপি।সকলে নবদ্বীপেরর নিমাই ঠাকুর নয়। অমন কথা বলা বড়ো দুষ্কর-" অমেধ্যপূর্ণে কৃমিজালসঙ্কুলে স্বভাবদুর্গন্ধ নিরন্তকান্তরে কলেবরে মূত্রপুরীষভাবিতে রমন্তি মূঢ়া..."। তিনি দেহাতীত। সাধারণের দেহগত অভিলাষ- রতিসুখসারে গতম্ অভিসারে..। জীবনের ছুটেচলা ফাগুন অভিসারে। হেমন্তের অপূর্ণতা নিয়ে, কুয়াশাময় একাকীত্ব নিয়ে বাঁচা যায় না। ফাগুন পূর্ণতার আয়োজন। ফাগুন অন্বেষণ। যে ফাগুনের খোঁজে তৃতীয় পাণ্ডব ছুটে বেড়িয়েছেন দ্রৌপদী থেকে সুভদ্রা থেকে উলূপীর দ্বারে দ্বারে। যে ফাগুন পাঞ্চালীর অন্তরে চুপকথা হোয়ে বেঁচে থাকে অধিরথ তনয়। শত মহিষীবেষ্টিত রাজসুখের মাঝেও যে ফাগুনের জন্য দুষ্মন্ত অপেক্ষায় - তার নাম শকুন্তলা।

শিমুল, তবে কার পায়ে পরাবো কৃষ্ণচূড়া নূপুর? প্রেমে শরীর আধার হলে তা নাকি মোহ।ক্ষণকালের নয়নসুখ। শরীরে খাদ্যখাদক ভাব জন্মায়। দেহ সম্পত্তি। মানে ভোগদখলে মরিয়া।সম্পদ বেহাত হলেই লড়াই। কামনার আগুনে ক্রোধের বাড়বাড়ন্ত। যা আমার নয়, তা আর কারো হতে পারে না। শিমুল কত অনায়াসে বেইজ্জত করে দিতে পারি তোকে অন্তর্জাল দুনিয়ায়। তোর তনুসৌষ্ঠব স্তন যোনি যৌনমিলন শীৎকার সব- সব। তোকে না পেলে মুখে ছুঁড়ে মারব অ্যাসিড।তোকে বা নিজেকে ঠেলে দেব ছুটন্ত ট্রেনের তলায়।ফাগুন বড় সর্বনাশা। বড় বেপরোয়া।

শিমুল, ফাগুন কি মনোময়! তাই কি তোর আমার মাঝে দীর্ঘ হয় কোলবালিশ। ফেসবুক চ্যাটে খুঁজে ফিরি অন্য ফাগুনের উষ্ণতা। তোর গর্ভাশয়ে যে ফাগুন, সে কি তোর আমার মধুমাসের মাধুকরী। সে কি তোর ডায়রির পাতার দেবদুলাল! তোর একলা দুপুরের সঙ্গী হওয়া ও প্রান্তের ফাগুনকথা! সে কি আমার স্কুলবেলার স্কার্টপরা কৃষ্ণচূড়া! নাকি কলেজ বেলার বাসন্তী চুড়িদারের চন্দ্রিমা!

শিমুল, আমার প্রিয় শিমুল। দেহ মনের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। চারিদিকে মন খারাপের কত পসরা।আপনজন যেন পর্ণমোচী তরুদল। লড়াই এখন বাস্তুভিটের। আত্মপরিচয়ের। তবু তুই এলে মৃত্যু ভুলে যাই। কলেজ গেটে প্রজাপতিদের রিংটোনে বাজে- বালম্ পিচকারি তুনে মুঝে মারি...। ঝুমি নদীর তীরে বসে অপেক্ষমাণ সুকান্ত তৃণার জন্য রোদ্দুরের খাতায় লেখে– পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান..। রাজবাড়ির নাটমঞ্চে বৈঠকি বন্দীশের সেতারে বাজে-- মথুরা নগরপতি কাহে তুমে গোকুল যাও..। ফাগুন বড় মায়াময়। মায়াপুরে ফাগুন কৃষ্ণেণ্দ্রিয়। ময়রাপুকুরে ফাগুন আত্মেন্দ্রিয়।শিমুল, আসার কাছে দুই- ই সত্য। মহূর্তকালের হলেও তা তো মধুর। চল শিমুল আরশিনগরের রাই কিশোর সেজে মেতে উঠি আবিরে কুমকুমে ফাগুনের হোলি খেলায়।

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault

‘ বর্ণমালা‚ আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’
শ্রীজিৎ জানা
 
শুক্কুরবার ভাষা দিবোস। বন্নমালা লেখা পাঞ্জাবি আর সহজপাঠ আঁকা শাড়ি প্যাহেন্নেবালি সাধন সঙ্গিনী সাথে নন্দোন চত্তরে এন্তার কবিতা। হেব্বি জমবে মাইরি। বরকত সালাম জিন্দাবাদ।
মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধো। বাট বেবিফুড খেলে অতো খিঁচে যাও কেন বস? দুধের সাথে বেবি ফুড মেশাণে দুধের গুণ বাড়ে। সো যত ইংলিশ মিডিয়ম তত উন্নতি। তত শিক্ষার চেকনাই। তত বাণিজ্য। তত কর্মসংস্থান।
 
আ মেরি বাঙলা ভাষা। মাথায় থাকো মাম্মি। বুক সেল্ফে থাকুক রবি ঠাকুর জীবনানন্দো। বাট মেয়েকে পড়াবো ইংলিশ মিডিয়ামে। এক বন্নো বাঙলা শেখাবো না। বাঙলা ভাষা নিয়ে কাঁদছে যারা কাঁদুক। যত্ত কাঁদুনেপনা। আদিখ্যেতা। জাস্ট নেওয়া যায় না।
 
কদ্দিন ধরে মাথায় একটা কোশ্চেন ঘুচ্চে কন্ডোম এর বাঙলা মানেটা যে কি হবে?
 
আ মেরি বাঙলা ভাষা!
 
 
Write comment (1 Comment)
0
1
0
s2sdefault

ও জীবন রে...
শ্রীজিৎ জানা

বিকেলর রোদপিয়ন উঠোনে রেখে যায় মনখারাপ। আজও সিঁথি থেকে মেটে সিঁদুর মোছেনি বাসনা। সেই কবে বিহারের ওমপ্রকাশ বিয়ে করে রেখে চলে গেছে,আর ফেরেনি। গাঁয়ে বলে বাসনি শকুন্তলা। বাপের ভিটেয় ভাইদের ফরমাশ খাটতে খাটতে চোখের পাতা ভারী হয়। অপেক্ষমান তারায় ঘর বাঁধার আকুলতা। লখি বাগদীকে চেনো না বোধ হয়? পাকুরদানার বাগপাড়ায় বাড়ি। স্বামী সুখ কপালে নেই। দু'দুবার বিয়ে। সাতজনের পেট। কাকভোরে পাঁশকুড়া বাজার থেকে সব্জী এনে কাজীরহাটে বেচে। এরা দিদি নম্বর ওয়ান না । জি বাংলা এদের ডাকবে না। মিনিটে দশটা ফুচকা গিলে ফ্রিজ পুরস্কার পাওয়া শোকেসে সাজানো পুতুল পুতুল গৃহবধুই বঙ্গের স্বয়ং সিদ্ধা।
           চাঁদখাঁপীদের  দরগা থেকে যখন আজানের সুর ভেসে আসে, তখন ঝুমঝুমির ভরত দাস আড়বাাঁশিতে সুর তোলে 'রাই জাগো রাই জাগো বলে...'। একবার ঘোষবাবুদের রাসমেলায় পদক পেয়েছিল সে। আজকাল কলিজায় তেমন জোর নেই। হাভাতে সংসারে হাড়খাটুনি সব রস নিগড়ে নেয়। দিনান্তে তবু বাঁশির সুর আজও পাড়াময় মন ভালো করা উদাসী হাওয়া ছড়িয়ে দেয়। ডোভার লেনে সে সুর পৌঁছোবে না কোনোদিন।
          ছোটিদিকে দেখেছো? ছটি পাগলি। পরনে ছেঁড়া নোংরা কাপড়, জটপরা চুল। আচমকা সামনে দাঁড়িয়েই বলে উঠবে - ভালবাসবি? আতা দেব। ভালোবাসা পায়নি ছটিদি। ভরভরন্ত সংসার ছিল তার। কেন যে পাগল হল কেউ বলতে পারে না। তাছাড়া পুরুষ মানুষের চরিত্রের দোষ ধরতে নেই। শোনা যায় তাকে দু-একবার ছিঁড়ে খুবলে খেয়েছে যেন কারা। ছটিদিকে সবজায়গায় দেখতে পাবে। মুখখানি তার বড্ড মায়াময়। ভাসানের দুগ্গা প্রতিমার মতো। তাবলে শোভাবাজার রাজবাড়ীর দুর্গাদালানে ওর ঠাঁই হবে না কোনোদিন।
          পাথরকুমকুমির জ্যোৎস্না টুডু। দশম শ্রেণী। শ‍্যামাঙ্গী। বড় হয়ে স্কুলের দিদিমনি হওয়ার স্বপ্ন। ভালবাসায় সাড়া দেয়নি বলে মুখে অ্যাসিড‌ মেরেছে যুবক। আইন আইনের রাস্তায় হেঁটে চলেছে, লালগড় পেরিয়ে রূপনারান তারপর তিলোত্তমা শহরে। জ্যোৎস্নার মুখের দিকে আজকাল আর কেউ তাকায় না। দুব্বোঘাসের মতো নরম মুখ, টানা চোখ সব দুমড়ে মুচড়ে একাকার। স্বপ্নটা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। ওকে তিলোত্তমা সাজে সাজাবেনা কেয়া শেঠ? ওর স্বপ্নপূরণের সঙ্গী হবে না তিলোত্তমা?
          স্মৃতির পাতায় দুপুরের চিলেকোঠা। ছেলেবেলায় বরবউ আদর। মিতুল নামের মেয়েটি আর মুঠোভরা হিজলফুল দেবে না দেবদুলালকে। আচমকা বেজে ওঠা রিংটোন ফিরিয়ে দেবে না নরম আদর। মন ভালো নেই, মন ভালো নেই। গাঁয়ের সরল কিশোরী মুহূর্তে অশ্লীল হয়ে উঠছে আন্তর্জাল দুনিয়ায়। রাত করে ফেরা ডলি কাকিমার গায়ে লাগছে বেইজ্জতের দাগ। রুপোলি পর্দার নগ্ন শরীরে নন্দনতত্ত্ব। শিল্পসুষমার পোস্টমর্টেম নিষ্ফলা মাঠ আর ব্যাঙ্কের লাল চিঠি কৃষকের দুয়ারে মৃত্যুর প্ররোচনা। রাজপথে লাঠিপেটা কর্মহীন যুবকের চোখে নামে ঘোর অন্ধকার। সিরিয়ালের জবার দুঃখে কেঁদে ওঠা বঙ্গবধূরা বেলপাহাড়ীর ঝুনি মান্ডির দুঃখে কাঁদবেনা কোনোদিন। চারিদিকে মুখোশের উৎপাত। অযোগ্যদের আস্ফালন। সুজনের ইশারায় গুপ্তচাল। মনমরা বালিশের চোখে নোনা জলের পদ্য। বিছানার মাঝখানে পাথুরে দেয়াল, নির্জন ফ্ল্যাটে একা মেঘ। ছায়া ভরা কোল নেই, স্নেহভরা ডাক নেই, শীতলকুচি আদর নেই, শুধু মঞ্চকান্না,শুধু বিপণন। চোখ ভোলানো যাত্রাপালা, মন ভোলানো কথার ছয়ালাপ। শুধু পর্ণমোচি মানুষের দল। তবু শ্রাবণ আসে, গন্ধরাজ ফোটে, বৃষ্টিরা জানালায় রেখে যায় জলছবি প্রেম। জীবনটাকে তখন  জাপ্টে ধরতে ইচ্ছে করে। গলা বেয়ে ওঠে গান - 'ও জীবন ছাড়িয়া যাস নে মোরে...'

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault

দূরভাষ

শ্রীজিৎ জানা

 

চোখের সামনে তুমি এলে

আমার চোখের দোষ কী বলো

এত দিনের অন্ধ যে জন

তোমার আলোয় দৃষ্টি পেল I

সে তো দৃশ্যসুখে আকাশ পাতাল

সে তো পাগল পাগল হয়ে

পলকের প্রিয় উত্তাপে প্রশ্রয়ে

তার কত রাত বিনিদ্ৰ পোহাবে ৷

দৃষ্টি দায়িনী বলো

খুব কী অপরাধ হবে সে অন্ধজনে

যদি তোমাকে জ্বালায় বারবার সেলফোনে ৷

Write comment (0 Comments)
0
1
0
s2sdefault