আশিস মিশ্র এর এক গুচ্ছ কবিতা

logo ashish ekk

 

গান

যতটুকু গান ততটুকু বেঁচে আছি।
যে ছলনা মৃত্যুর পয়ারে আসে, তাকে
আমি অগ্রাহ্য করেছি। কানামাছি  খেলা
দিয়ে আমাকে ভোলাবে? অসত্য প্রলাপে
ঢাকা দেবে নাকি? তাকি কখনো ভেবেছো?
ভুলে যাও হে অনাম্নী। অসুখে–অ-সুরে
ফেলে দিলে জেগে উঠি অনন্ত উত্তাপে...


চেয়ার
প্রতিবাদী ভালো। দেখি, বসে গেলে কেউ
চেয়ার ছেড়ে সহজে ওঠে না। বাসনা
বিঁধে যায় বুকে--ভুলে যায়, খাঁটি ঢেউ
এলে আনন্দে লাফিয়ে পড়বে ফেনায়।
সে সুযোগ নেই, জনতার চিতবোধে
তুমি এক অপদার্থ গোলক, প্যাঁচালো–
তাই যতটা সহজে নিয়েছো চেয়ার
তা হবার ছিল না হে কালো কালো কালো।


ভাষা
এতদিনে  কত ভাবে বদলে গিয়েছে
চারপাশ। শুনসান রাস্তা– শ্মশানের
দিকে  চেয়ে বসে আছি! গুটি গুটি পায়ে
যে বিড়াল এলো কাছে সে বললো, ম্যাঁও
আমিও বুঝেছি,  যতবার কিছু বলি,
সে বলেছে ম্যাঁও-ম্যাঁও -ম্যাঁও– সত্যি তাই
ওর মতো আমার ভেতরে জেগে ওঠে
ম্যাঁও ভাষা– সারাদিন চারপাশে বলি...


শেষ দিন
পৃথিবীর শেষ দিন কেউ জানি? জানি
বলে এক ষাঁড় লেজ তুলে মাঠখেত
পার হয়ে গেল; তারপর হেসে হেসে
উপেক্ষা করেছি তাকে, গরু বলে বেত
মেরেছি কতো। কিন্তু কাকে মারছি, নেই
কোথাও তো সেই ষাঁড়, তাহলে? ম্যাজিক
ম্যাজিক– শেষের কটাদিন কীরকম
কেউ জানি না– শুধু অলীক চিকচিক...


এক্স
ধূপ জ্বেলে মদ খেতে বসি। কবিয়াল
বলে ডাক দেয় ভল্টুখুড়ো, যে আমায়
কৈশোরে সঙ্গম করেছিলো– হোমোসেক্স-
কতদিন এই সব মনে পড়ে– ধ্যাত
বলে তুমি সে কাহিনি শুনে লজ্জা পেলে
সত্যি সত্যি বলে টপাটপ চুমু খেয়ে
নিলাম নদীর,  বলো বলো, সব এক্স...


গণেশ
ভার মুখে বসে আছে গণেশ বাবাজী।
আমরা তাকে গণশা বলে ডাকি, নাড়ু
দিয়ে পেট টিপে দিয়েছি কখনো, কবে
যে সে হেসে কথা বলেছে দেখিনি। বাঁড়ু
বলে তার নাক টেনে ধরে খিলখিল–
তবু সে কিচ্ছুটি বলেনি–কেননা মন্দা–
একদিন তার রোগা ভোগা শরীরের
কাছে যেতে সে খুব কাঁদলো; ছন্দা
তাকে দুধ খাওয়ালো--মেয়েদের মন!
এ গণেশ আমাদের পাড়ার; কবিতা
লিখেছে অনেক--কেউ তা ছাপেনি, আমি
তার দুটো ছেপেছি, জগে ওঠে জনতা...


জোনাকি

ওই টুকু আলো হলে চলে যাবে বেশ
পাখির বাসার মতো বেঁচে থাকে মোহ
একদিন তাও চলে যাবে ঝড়ে! রেস
থেকে যাবে কতদিন সেই বিষাদের--
শহরের ঘর গ্রামেদের ঘর আজ
স্তব্ধ পাথরের চাঁই--শুধু অন্ধকার--
জোনাকি আলোর মতো  মায়া উড়ে চলে।



সিঁড়ি
সিঁড়ি ভেঙে গেলে সব বাতিল বাল্মিকী
একসঙ্গে বসে কবিতা যাপন করি।
সফরের ঘাড়ে বসে থাকে কালো জোঁক
রক্ত ঝরে পড়ে! শক্ত হয়ে ধরে থাকি
কলমের হাত--লিখে চলি যত শোক।


কাটারি
ছায়া পেয়ে গেছে। শরীরের গাছ বড়ো
প্রতিভাধর হয়েছে। টের পেয়ে গেছো--
এইবার তার ডালপালা কেটে দেয়
বাণিজ্য কাটারি! সারাদিন অস্ত্র নিয়ে
সে ভয় দেখায়--তাকে রোধ করো কবি।


জীবনী
জীবনী লেখার শেষে বাহবা পেয়েছো
আঁতেল হাওয়া এসে চুমু দিলো গালে
বড়ো উপকারী সব বন্ধু, দেখা নেই --
অসময়ে কাক এসে দিয়ে যায় ডিম
এই তো জীবনী আমার আশ্চর্যকুসুম।

 
 

Comments powered by CComment