• IMG-20180311-WA0016-copy.jpg


আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...



মার্চ ২০২০                                                  প্রচ্ছদ–ঋত্বিক ত্রিপাঠী    
Write comment (0 Comments) Write comment (0 Comments)
 

শিমুল, আমার প্রিয় শিমুল
শ্রীজিৎ জানা

শিমুল, মনের কোণে যখন হেমন্তের শূন্যতা, করঞ্জর ডালে বসা কোকিলের কুহু বলে গেল তোর আসার কথা। জানি, তুই আসবি প্রতিবারের মতো ফাগুন রঙে রাঙা হোয়ে। খোঁপায় রক্ত পলাশ। দু' গালে আবিরের আদুরে আলপনা। আমার চোখ মুখে তখন শীতেরর চিহ্নটুকু নেই। পর্ণমোচী মনের শাখায় কুসুমিত নবপল্লব। মাথায় তখন গোঁজা ময়ূরপুচ্ছ, হাতে বাঁশি। তোর পাশে আমি গাঁয়ের রাখাল। তখন তো "হৃদয়তটিনী মম সগর্জনংপ্রবহতিতরাং"। অজয় নদের তীরে যে উচ্চারণ সেতো আমার – "দেহি পদপল্লব মুদারম্"

শিমুল, শরীর নাকি মন কোন ফাগুনে যুগল হব আমরা! শরীর তো এক বসন্তঋতু, মনে থাক অনন্ত মধুমাস। কিন্তু এই যে তোর সাথে আমার আবির বিনিময় সেকি মথুরা- বৃন্দাবন! সেকি আত্মা- পরমাত্মা দোল উৎসব! নাকি রঙ মাখাবার ছলে গোপন স্পর্শসুখ! ফাগুন তো স্পর্শ উন্মুখ। প্রেমের মলাটের ভিতর গোপন মৈথুনের অক্ষরলিপি।সকলে নবদ্বীপেরর নিমাই ঠাকুর নয়। অমন কথা বলা বড়ো দুষ্কর-" অমেধ্যপূর্ণে কৃমিজালসঙ্কুলে স্বভাবদুর্গন্ধ নিরন্তকান্তরে কলেবরে মূত্রপুরীষভাবিতে রমন্তি মূঢ়া..."। তিনি দেহাতীত। সাধারণের দেহগত অভিলাষ- রতিসুখসারে গতম্ অভিসারে..। জীবনের ছুটেচলা ফাগুন অভিসারে। হেমন্তের অপূর্ণতা নিয়ে, কুয়াশাময় একাকীত্ব নিয়ে বাঁচা যায় না। ফাগুন পূর্ণতার আয়োজন। ফাগুন অন্বেষণ। যে ফাগুনের খোঁজে তৃতীয় পাণ্ডব ছুটে বেড়িয়েছেন দ্রৌপদী থেকে সুভদ্রা থেকে উলূপীর দ্বারে দ্বারে। যে ফাগুন পাঞ্চালীর অন্তরে চুপকথা হোয়ে বেঁচে থাকে অধিরথ তনয়। শত মহিষীবেষ্টিত রাজসুখের মাঝেও যে ফাগুনের জন্য দুষ্মন্ত অপেক্ষায় - তার নাম শকুন্তলা।

শিমুল, তবে কার পায়ে পরাবো কৃষ্ণচূড়া নূপুর? প্রেমে শরীর আধার হলে তা নাকি মোহ।ক্ষণকালের নয়নসুখ। শরীরে খাদ্যখাদক ভাব জন্মায়। দেহ সম্পত্তি। মানে ভোগদখলে মরিয়া।সম্পদ বেহাত হলেই লড়াই। কামনার আগুনে ক্রোধের বাড়বাড়ন্ত। যা আমার নয়, তা আর কারো হতে পারে না। শিমুল কত অনায়াসে বেইজ্জত করে দিতে পারি তোকে অন্তর্জাল দুনিয়ায়। তোর তনুসৌষ্ঠব স্তন যোনি যৌনমিলন শীৎকার সব- সব। তোকে না পেলে মুখে ছুঁড়ে মারব অ্যাসিড।তোকে বা নিজেকে ঠেলে দেব ছুটন্ত ট্রেনের তলায়।ফাগুন বড় সর্বনাশা। বড় বেপরোয়া।

শিমুল, ফাগুন কি মনোময়! তাই কি তোর আমার মাঝে দীর্ঘ হয় কোলবালিশ। ফেসবুক চ্যাটে খুঁজে ফিরি অন্য ফাগুনের উষ্ণতা। তোর গর্ভাশয়ে যে ফাগুন, সে কি তোর আমার মধুমাসের মাধুকরী। সে কি তোর ডায়রির পাতার দেবদুলাল! তোর একলা দুপুরের সঙ্গী হওয়া ও প্রান্তের ফাগুনকথা! সে কি আমার স্কুলবেলার স্কার্টপরা কৃষ্ণচূড়া! নাকি কলেজ বেলার বাসন্তী চুড়িদারের চন্দ্রিমা!

শিমুল, আমার প্রিয় শিমুল। দেহ মনের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। চারিদিকে মন খারাপের কত পসরা।আপনজন যেন পর্ণমোচী তরুদল। লড়াই এখন বাস্তুভিটের। আত্মপরিচয়ের। তবু তুই এলে মৃত্যু ভুলে যাই। কলেজ গেটে প্রজাপতিদের রিংটোনে বাজে- বালম্ পিচকারি তুনে মুঝে মারি...। ঝুমি নদীর তীরে বসে অপেক্ষমাণ সুকান্ত তৃণার জন্য রোদ্দুরের খাতায় লেখে– পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান..। রাজবাড়ির নাটমঞ্চে বৈঠকি বন্দীশের সেতারে বাজে-- মথুরা নগরপতি কাহে তুমে গোকুল যাও..। ফাগুন বড় মায়াময়। মায়াপুরে ফাগুন কৃষ্ণেণ্দ্রিয়। ময়রাপুকুরে ফাগুন আত্মেন্দ্রিয়।শিমুল, আসার কাছে দুই- ই সত্য। মহূর্তকালের হলেও তা তো মধুর। চল শিমুল আরশিনগরের রাই কিশোর সেজে মেতে উঠি আবিরে কুমকুমে ফাগুনের হোলি খেলায়।

Comments powered by CComment