• IMG-20180311-WA0016-copy.jpg


আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...



মার্চ ২০২০                                                  প্রচ্ছদ–ঋত্বিক ত্রিপাঠী    
Write comment (0 Comments) Write comment (0 Comments)
 

বসন্ত-পুরুষকে একটি খোলা চিঠি
অন্তরা দাঁ

এই যে... 
শুনছ?  প্রাণ আমার?  আমার বসন্ত-পুরুষ
সেদিন ইস্কুল থেকে ফিরছি, এলোমেলো পায়ে হাঁটা পথ কুমারী মেয়ের সিঁথির মত পরিচ্ছন্ন নেই আর, হরজাই পাতা ঝরছে জানো, ভার্সিটি'র পুবের রাস্তা ধরে... 
ওই রাস্তাটা মনে আছে তোমার?  ওই যে চীনে রেস্তোরাঁ'র সামনে দুদিকে লোহার লম্বা বাতিদানের মাথায় টোপর দেওয়া আলোর ফলক?  মনে আছে? শীত শেষের এক ছমছমে দুপুরে ওইখানে দাঁড়িয়ে তুমি আমার আঙুল ধরেছিলে, প্রথমবার নয়, তবু মনে আছে! 
সেই পাতাঝরা গাছেদের শুকনো কাঠির কঙ্কালের কোলাজ আকাশের নিনির্মেষ নীলের দিকে বাড়িয়ে, তারা খোঁজে!   যতদূর চোখ যায় হরজাই পাতারা খসে পড়ছে টুপটাপ, এই রাস্তাটি অনেকটা শান্তিনিকেতনের ভিতর যে রাস্তাটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতিভবনের সামনের দিকে দিয়ে চলে গেছে বল্লভপুর জঙ্গলের দিকে অনেকটা সেই রকম।  সকাল-বিকাল শিরশিরানি থাকলেও দুপুরের দিকে একটানা কাজ করতে করতে একঝলক ফ্যান চালালে বেশ লাগছে! ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পেছন দিকের মাঠে, ফসল-ওঠা শূন্যতা, খোঁচা খোঁচা খড়ের নাড়া, দুদিন পরই দোল, নাড়া পোড়ানো হবে, বুড়ো-বুড়ির ঘর পুড়বে দোলের আগের দিন সন্ধ্যেয়! আকাশে তখন সোনার থালার মত চাঁদ! 
দুপুরে ধুলোর ঝড় ওঠে, গোল করে শুকনো পাতা ওড়ে, ধুলো উড়ে চোখে, গলায়, জ্বালা জ্বালা করে,ঠিক যেমন তুমি দুদিন দাড়ি না কাটলে হয়!  আমার উত্তর-যুবকের চিবুকের রুক্ষ আদরের মত। 
রোজ রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর ছাদে গিয়ে দাঁড়াই, হু হু হাওয়া এসে আমার ভাবনাদের উড়িয়ে নিয়ে যায়। ফ্ল্যাটবাড়ির খোপ খোপ ঘরে আলো জ্বলে, কোনটায় অন্ধকার, সব মানুষের ঘরবাড়ি!  সুখের খোপ, দুঃখেরও। পুতুলের সংসার দেখি, সাজানো-গোছানো। আলাদ আলাদা অথচ কী ভীষণ একঘেয়ে। স্বামী-স্ত্রী, বিছানা-বালিশ, হাঁড়ি-পাতিল, ন্যাকড়া-চোকড়া, মা-তারা মার্কা ক্যালেন্ডার, সস্তার রেডিও, দামী টিভি, এসি, ফ্রিজ, সব রেখাই সমান্তরাল, তবু বৃত্ত হয়ে যায়, হয় কি?  কি করে হয়?  এ নিয়ে আরেকদিন বলব তোমায়। 
পলাশ ফুটেছে। তোমার মত একলা পলাশ। তুমি যেমন হাজার ভীড়েও আলাদা। আমার প্রেম, আমার বসন্ত এসব কথা লিখছি তোমায়, সব কথা যে মুখে বলতে পারিনা, যা বলা গেল না তা হলুদ-বসন্ত পাখির মতই কবুতরী চিঠির অক্ষরে তোমায় জানিয়ে দিক সেই প্রেমকাতরী আমার বেহায়া আবেগ!  শিমুলের নরম মাংসল শরীর পড়ে থাকে ধুলো'য়, ঘাসে, শুকনো খড়ে, দেখে  গা শিরশির করে আমার। ঠিক তোমার জ্বরঠুঁটো উঠলে অমন ক্ষত হয়, কালচে-লাল, রসালো। বোরোলিন সরে গেলেই শিমুলের থ্যাঁতলানো পাপড়ি! 
এত রঙ, কুসুম গাছে এত আগুনের শিখার মত ফুল, পাতা, তবু তুমি যে কেমন করে আমায় এক নিশ্ছিদ্র শূন্যতায় মুড়ে রাখো অনুক্ষণ, এক ব্যাথাগর্ভ সুখ, টনটন করে ওঠে আমার জরায়ু। তিরতির করে বসন্ত-সুখে! হাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে মিশে থাকে তোমায় না পাওয়ার আক্ষেপ, তবু তো প্রেম, একবার ডাকলেই আমি পাহাড়ি-ঝোড়া, আমি ফাগুন-বউ,আমি চৈত্র রাতের একলা হাওয়া মাতাল! 
আমার প্রাণবান পুরুষ-প্রেম, আমার বসন্ত-সখা, বছর শেষে ঝড়-বাদলের ফ্লাইট ধরে চলে যাও, আবার আসবে বলে?  আদরে -আবেগে ভাসাবে বলে?  আবার ভালোবাসবে বলে? 
তোমার 
প্রেমকাতরী... 

Comments powered by CComment