• IMG-20180311-WA0016-copy.jpg


আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...



মার্চ ২০২০                                                  প্রচ্ছদ–ঋত্বিক ত্রিপাঠী    
Write comment (0 Comments) Write comment (0 Comments)
 
সেকেন্ড কোট
শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী 
 
অনেক কষ্টে চুপিচুপি ঘরটা জোগাড় করেছিল অয়নাভ। শর্মিলারও আসাটা সহজ ছিল না। সামনে ছেলের মাধ্যমিক। বাড়ি ভর্তি লোক।শশুরের বাইপাস হবে। লোকজন গিজগিজ।অয়নাভ বরং খানিকটা হাতপাঝাড়া। বৌ বর্ধমানে বদলি। সপ্তাহে একদিন দেখা হয়।
          মাত্র দুঘন্টার জন্য সাড়ে সাতশো টাকা। তাই সই। ফেসবুকে যখন শর্মিলাকে অয়নাভ প্রথম দেখেছিল, তখন মনে হয়েছিল ঈশ্বর দ্যুলোক থেকে একজন অপ্সরা পৃথিবীর বুকে পাঠিয়ে  দিয়েছেন।আর সেই অপ্সরা যে মানবী, তা শর্মিলা প্রমাণ করলো আজ। অয়নাভ প্যান্ট গলিয়ে নিল।শর্মিলা আবার। ওরা কেউ দেবদেবী নয়। রক্তমাংসের মানুষ। আর মানুষের একটা শরীর থাকে। সেই শরীরের ভিতর থাকে প্রেম।
           ওদের দুজনের ভালোবাসার মূল জায়গা ছবি আঁকা। অয়নাভ কলেজে পড়ানোর ফাঁকে এখনও সেটা চালিয়ে যাচ্ছে। আর শর্মিলা সেটা সংসারের চাপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। তার বর সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তাদের পরিবারে কোনও গৃহবধূ স্টুডিওতে বসে ন্যুড স্টাডি করবে এটা মেনে নেওয়াই যায় না। কিন্তু আঁকার ক্যানভাস তার মনে রয়ে গেছে। দুঘন্টা শেষ হতে বাকি আরও আধ ঘন্টা। তাই কথা হতেই পারে।অয়নাভই শুরু করল।
–সব চারপাশ কেমন গয়ার আঁকা ছবির মতো বিভৎস হয়ে উঠছে। যেন বাবা তার পুত্রকে ভক্ষণ করছেন।
–তাই? আমার তো লাগে না। আমার তো অমৃতা শেরগিলের নগ্নতার মতো লাগে। বিভৎসতাও তো আপেক্ষিক। এটা বুঝি যখন নগ্ন হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি।
–কী দেখো?
–দেখি সকলের কাছে যেটা ঐশ্বরিক সৌন্দর্য, আমার কাছে সেটাই ঐশ্বরিক নিস্তব্ধতা ও একাকিত্ব ।
–এমন কেন বলছো। এই তো আজ আমরা দুজন...
–কিন্তু অপরাধবোধ? সেটা তো যাবার নয়।
–তাহলে?
–আর আমাদের দেখা হবে না।
–বেশ।
–কখনো হবে না। অতুল গুপ্তর তৈলচিত্র হয়ে দুজনে থাকবো।
–তারপর?
–থেকে যাবো কোথাও। প্রদর্শনী ঘরে।
–বেশ। তাই হবে। এই শেষবার।
–আদর করো আমায়। আর একবার। আমার তুলি হয়ে ওঠো।
–বেশ। হলাম।
–কতো সময় বাকি?
–মিনিট পনেরো।
–আরেকবার হোক। খুব করে। শেষবারের মতো।যন্ত্রণা দাও। যাতে আর না ফিরে চাই।
–কিন্তু এই যে বললে...
–এটা সেকেন্ড কোট। বারো মিনিট বাকি।
–বেশ।
অয়নাভ আর শর্মিলা আবার একবার নিজেদের আভূষণ খুলে ফেলে। দুটো ক্যানভাসে আবার রঙের দ্বিতীয় প্রলেপ পড়তে শুরু করে।
 
 
 

Comments powered by CComment