logo corona

পথ খুঁজে না পাই
রোশেনারা খান

জীবনঘাতি করোনা ভাইরাস আতি দ্রুত সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলছে । কোনও ভাবেই তাকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা যাচ্ছে না । সামনে শুধুই অন্ধকার । কেউই আসার আলো দেখাতে পারছে না । এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিজ্ঞানীরা করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেননি । বিশেষ করে পশ্চিমের দেশগুলিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা । শোনা যাচ্ছে কফিন পাওয়া যাচ্ছেনা । কোথাও লাইন দিয়ে কবর কেটে রাখা হচ্ছে । আমাদের দেশেও ধীর গতিতে হলেও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা । তবে পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ দানা বান্ধছে শুধু দেশের মানুষের মনেই নয় , প্রবাসীদের মনেও। স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও যখন হালে পানি পাচ্ছে না , তখন আমাদের মত সাধারণ ছাপোষা মানুষ কীভাবে করোনার সঙ্গে লড়াই করবে ? করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারে দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংস্কার মুক্ত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি মিলছে না । সারাদিন ধরে জনতা কার্ফু পালন করে প্রধান মন্ত্রীর আদেশে মানুষ রাস্তায় নেমে কাঁসর ঘণ্টা ,থালা-বাটি ,হাতা-কড়াই বাজিয়ে করোনা তাড়াতে লাগল । সারাদিনের জনতা কার্ফু এক নিমেষে মূল্য হারাল । কেন্দ্রীয় সরকার কিছু কিছু বিষয়ে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কী পদক্ষেপ নিলে মানুষ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবে তা না ঠিক করে হঠাৎ লক ডাউন ঘোষণা করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষকে চরম বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়া হল । সরকার কি পারতো না ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া মানুষগুলোর ঘরে ফেরার জন্য ট্রেন বা বাসের ব্যবস্থা করতে? পারতো না বিদেশ থেকে আগত দের বাড়িতে যেতে না দিয়ে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিতে? এমনিতেই কী শিক্ষিত কী অশিক্ষিত ,কেউ একে অপরের থেকে দূরত্ব মেনে চলছে না। তার ওপর, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর মূল্যবান ভাষণে বললেন, ৫ এপ্রিল রাত ৯ টা থেকে ৯ মিনিট পর্যন্ত বাড়ির সব আলো নিভিয়ে দিয়ে প্রদীপ অথবা মোমবাতি

জ্বালাতে । দেশের এক শ্রেণির জনগণ সুযোগ পেয়ে ৫ এপ্রিল ঘড়িতে ৯ টা ৯ বাজতেই রাস্তায় বেরিয়ে পটকা ফাটাতে শুরু করল । মোমবাতি তো জ্বলই, সেইসঙ্গে মশাল মিছিলও হল । পরিবেশ এই কয়েকদিনে যেটুকু দূষণ মুক্ত হয়েছিল, তা আবার ভরে গেল। ওদের বিশ্বাস ,এতেই করোনা ভাইরাস পালাবে। প্রধান মন্ত্রী কি আর এমনি এমনি বলেছেন। তিনি যে জন্যই বলে থাকুন , আমাদের রাজ্যের বড় বড় জ্যোতির বিজ্ঞানীরা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশকে মান্যতা দিলেন।  এরা ছাড়াও কিছু বুজরুক ও ব্যবসা চালাতে শুরু করেছে । এই যদি আম জনতার মনোভাব হয়,আমাদের মত সাধারণ মানুষ তাদের কীভাবে পথ দেখাবে? সে সাধ্য কোথায় ? জীবনটা যখন আমার প্রিয়জনদের ও আমার নিজের ,তখন আমাদেরই নিজের মতো করে বাঁচার পথ খুঁজে নিতে হবে।পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। বাইরের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা,পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ নজরে রাখা । যতটা সম্ভব অভুক্ত মানুষ , পশু-পাখিদের খাবার ব্যবস্থা করা । আর হ্যাঁ ,অসুস্থতা লুকিয়ে রেখে পরিবারের অন্যান্যদের বিপদে না ফেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে যাওয়া। এগুলি মেনে চলতেই হবে। তারপর কী করতে হবে সময় বলে দেবে।

Comments powered by CComment