iswarchandra vidyasagar

Mohool Potrika
Login Here  Login::Register

আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...

শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, শুধু এই...



sambhunath chattapadhyay

স্বাদহীনতার কাহানি



Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
জল জঙ্গল জমিন / হড় মিতানের ঋণ ।। গৌতম মাহাত
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
স্বাধীনতার স্বাদহীনতা ।। সুদেষ্ণা ঘটক অধিকারী
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
শিক্ষকের স্বাধীনতা–শিক্ষকের স্বাদহীনতা ।। শোভা ভট্টাচার্য্য
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
ভয় ।। অর্পিতা আচার্য
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
তুলির টানে স্বাদ–হীন সময় ।। অঙ্কন মাইতি
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
ছোলামুড়ি ।। অলক জানা
Card image

গদ্য : স্বাদহীনতার কাহানি
হে আমার দেশ ।। অভিনন্দন মুখোপাধ্যায়
Card image

প্রবন্ধ : স্বাদহীনতার কাহানি
স্বাধীনতার এত বছর পরেও লোকশিল্পীদের স্বাদহীনতার কাহিনী ।। ভাস্করব্রত পতি
Card image

গল্প : স্বাদহীনতার কাহানি
শিশুর স্বাধীনতা– শিশুর অধিকার ।। সহদেব প্রধান
Card image

গল্প : স্বাদহীনতার কাহানি
রবিবাসরীয়র জন্য গল্প ।। শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী

keshab heontor mohool

 

‘পিসেমশায়! আমি কি ঐ উঠোনটাতেও যেতে পারব না?'

–এই শব্দবন্ধ আজ  যেন বুকের মাঝে বারংবার ছ্যাঁৎ করে ছুঁয়ে যাচ্ছে । অমলের মতো কতো কোমলমুখের এখন এই একটাই আর্তি। দেওয়াল তোলা বর্গফুটের কারাগারে অসুখভয়ে বদ্ধ শৈশব। নির্ঘুম রাস্তার বুকেও শ্মশানের নিস্তব্ধতা।  নিজের অসুখ-বিসুখ হলেও না হয় ক'দিন ঘরবন্দি থাকা যায়; কিন্তু এ যে পৃথিবীর অসুখ, গভীর অসুখ!

           গনগনে সূর্য যখন মাঝ-আকাশ থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ছে টিফিন-শেষের ঘন্টার মনখারাপ নিয়ে, তখন আমার হাতে  সহজপাঠ উঠে আসে। ‘নাম তার মোতিবিল, বহুদূর জল, / হাঁসগুলি ভেসে ভেসে করে কোলাহল’। চার দেয়ালের মাঝে কচিকচি মুখগুলোর নিজস্ব কিচিরমিচির ছাড়িয়ে 'কোলাহল' শব্দে ভেসে উঠত ক্লাসরুম। যেন মনে হত ওদের চোখের আকাশে ভেসে যাচ্ছে হাঁসের সেইসব চিরকালীন সাঁতার। নিজের ছেলেবেলার কথা আমার তেমন মনে নেই, তখন কীভাবে ডানা মেলত সহজপাঠের চিল কিংবা বক, কে জানে! কিন্তু এই বয়সে যে সহজপাঠ এভাবে স্পর্শ করে দিগন্ত রঙিন করে তুলছে তা ওই যাদুকরের জন্যই।

      ভিড়ের ভয় আমার আজন্মকাল। কোলাহলের ভিতর একলা কাঁপত রুগ্ন কিশোর বয়স। তাই নির্জন-উঠোন, নিরালা-দুপুর, নিস্তব্ধ- বিকেল, নিঃসঙ্গ নদীর কাছেই  যত অভিযোগ আর অনুযোগ। রবিঠাকুর তখন বক্তৃতার, রবিঠাকুর তখন পাঠ্য বইয়ে আর ওই স্কুলের বারান্দার পাথররঙা মুখ। সেভাবে তেমন আমার অন্দরের হয়ে ওঠেননি। একদিন স্কুলের মঞ্চে প্রথম দেখা  'ডাকঘর' । এক বালক বিছানায় শুয়ে। অসুখ। তার বাইরে বেরোনো বারণ। যখন সে বলছে জানলা থেকে দেখা দূরের পাহাড় পেরিয়ে একদিন  চলে যাবে...পৃথিবীটা কথা বলতে পারে না... নীল আকাশ হাত তুলে ডাকে আর দুপুরবেলার একলা জানলার ধারে বসে সেসব ডাক নাকি শোনা যায়! এসব দেখে শুনে আমার মনে হয়েছিল– আমিই অমল। সেই থেকে ডাক শোনার আগ্রহ নিয়ে একলা জানলায় কাটিয়েছি কত দুপুর।

     এই একটা 'ডাকঘর'  কতবার যে কাঁদিয়েছে আমায় তার ইয়ত্তা নেই। যতবার পড়েছি মনে হয়েছে এই শেষবার, নিজে থেকে কে আর মনখারাপের বাঁশি বাজাতে চায়! দিন যায় মাস যায়, মনে হয় কতদিন আয়নায় মুখ রাখা হয়নি। কতদিন দেখা হয়নি আমার অমলের সাথে। ডুমুর গাছের নীচে যে ঝরনা, নাম নেই, তার ধারে বসে অমল একদিন ছাতু খেতে চেয়েছিল। পিসিমা বলেছেন অমল ভালো হয়ে গেলে একদিন নিশ্চয়ই ঐ ঝরনা ধারে নিয়ে গিয়ে ছাতু খাইয়ে নিয়ে আসবে। এই দৃশ্যে আমি আমার বড়পিসিকে কাছে পাই। মনে হয় আমি তার কোলে মাথা রেখে জিজ্ঞেস করছি– কবে আমি ভালো হব? আর আমার আলাভোলা বড়পিসিও অমলের পিসিমার মতোই বলে ওঠে–'আর তো দেরি নেই বাবা!'

পাঁচমুড়া পাহাড় দেখিনি আমি। আকাশের শেষ থেকে পাখির ডাক শুনে মনকেমন করতে শিখেছি অমলের কাছ থেকে।  অমলের  সহজ ইচ্ছেগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে দেখি এক দিকের বাতাস কেমন করে অন্যদিকে বয়ে যায়। অথচ অমলের শরীরে বিষ ছিল এই হাওয়া এই বাতাস এমনকি সূর্যাস্তের আলো। রাজকবিরাজ যেদিন এসে বললেন, খুলে দাও সব জানলা দরজা। অমল দেখতে পেয়েছিল অন্ধকারের ওপারকার তারাদের সংসার, তার আর অসুখ নেই। তখন আমার মনের গভীরে আশার আলো জেগেছিল। এইবার, এইবার নিশ্চয়ই অমল বেরিয়ে পড়বে চিঠি নিয়ে, কিংবা পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায় শ্যামলী নদীর ধারে। সুর করে ডেকে উঠবে দই–দই– ভালো দই! হয়তো বা সুধাকেই প্রশ্ন করবে –ভুলে গেলে আমায়! হয়তো বা প্রহরীর ঘন্টাধ্বনি শুনে কেমন করে উঠবে মন, সেই দূর দেশের কথা ভেবে! কিন্তু তা তো হল না। ঢং ঢং ঘন্টা ধ্বনিতে যেমন ছুটির আনন্দ লেখা থাকে, তেমনি থাকে বিদায়ের সুর।  এমনি করেই একদিন সমস্ত মনকেমন অসহায় হয়ে দাঁড়াল বিচ্ছেদ-যন্ত্রণায়। অমল শুয়ে, ঘরের প্রদীপ নিভে গেল!  রাজা এসে অমলকে ডেকে নিয়ে গেলেন অন্য ঘরে! সেই হিমের ঘরে!

একটা হাহাকার চিরদিনের মতো লিখে রেখে গেলেন যাদুকর। জেগে থাকল একলা দুপুর আর বিষণ্ণ বিকেল। আর ঘরের ভিতর বসে বসে আমৃত্যু মনকেমন করে যাব আমরা, অমলের বন্ধু যারা।

শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, শুধু এই... ।। সুকান্ত সিংহ



Card image




শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, শুধু এই...  দেখেছেন : 834

শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, শুধু এই... ।। সুকান্ত সিংহ
Sukanta Sinha ।। সুকান্ত সিংহ

শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায় চলে যাবার পরে সম্ভবত আমরা কেউ কেউ অনুভব করতে পেরেছি তাঁর কবিতার মতো, তাঁর থাকাটিও আলতো ছিল। যেমন আলতো ছুঁয়ে থাকে পেনসিল হারিয়ে ফেলার সেই কবেকার স্মৃতি, যেমন ছুঁয়ে থাকে আমাদের সমস্ত ঘুমের ভেতর বিকেলের শেষ রোদ, ঠিক…

Feb 20, 2021
আরও পড়ুন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া



Card image




ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া   দেখেছেন : 972

মহামারী ও বিদ্যাসাগর ।। মৌসম মজুমদার
Mousam Majumder ।। মৌসম মজুমদার

    এক অভূতপূর্ব অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি। করোনা আজ মহামারীর রূপ নিয়ে গোটা বিশ্বে জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দাঁড়িয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। থমকে গেছে বিশ্বের সংস্কৃতি চর্চা। সামাজিকতা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। অন্ধকার ভবিষ্যৎ হাতড়ে আশার আলো খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা। এর…

Sep 25, 2020
Card image




ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর : আমাদের শিরদাঁড়া   দেখেছেন : 834

বিদ্যাসাগরের বিজ্ঞান ভাবনা ।। সুব্রত কুমার বুড়াই
Subrata Kumar Burai ।। সুব্রত কুমার বুড়াই

    আলোর উৎস থেকে আস্তে আস্তে যতদূরে যাওয়া যাবে ততই আলোর দীপ্তি ক্রমে কমতে কমতে একসময় আর আমাদের চোখে পড়বে না। ব্যতিক্রম সূর্য। দূরে থাকা সত্ত্বেও তার রশ্মির দিকে তাকানো যায় না। এমনই এক ব্যতিক্রমী আলোকোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব বিদ্যাসাগর। তাঁর অবিনাশী অস্তিত্ব…

Sep 25, 2020
আরও পড়ুন

সর্বাধিক জনপ্রিয়



সহজ কবিতা সহজ নয় কঠিনও নয়



মহুল ওয়েব প্রকাশিত বিভিন্ন সংখ্যা



করোনা Diary



আমাদের কথা

আমাদের শরীরে লেপটে আছে আদিগন্ত কবিতা কলঙ্ক । অনেকটা প্রেমের মতো । কাঁপতে কাঁপতে একদিন সে প্রেরণা হয়ে যায়। রহস্যময় আমাদের অক্ষর ঐতিহ্য। নির্মাণেই তার মুক্তি। আত্মার স্বাদ...

কিছুই তো নয় ওহে, মাঝে মাঝে লালমাটি...মাঝে মাঝে নিয়নের আলো স্তম্ভিত করে রাখে আখরের আয়োজনগুলি । এদের যেকোনও নামে ডাকা যেতে পারে । আজ না হয় ডাকলে মহুল...মহুল...

ছাপা আর ওয়েবের মাঝে ক্লিক বসে আছে। আঙুলে ছোঁয়াও তুমি কবিতার ঘ্রাণ...

 

 

কবিতা, গল্প, কবিতা বিষয়ক গদ্য পাঠাতে পারেন ইউনিকোডে ওয়ার্ড বা টেক্সট ফর্মাটে মেল করুন [email protected] ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- www.mohool.in এ প্রকাশিত লেখার বিষয়বস্তু ও মন্তব্যের ব্যাপারে সম্পাদক দায়ী নয় ।